কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

বড়বেলায়, বিকেলবেলায়


অবশেষে পড়ন্ত বিকেলে সূর্যটা নরম হয়- প্রতিদিন শেষ চুমু দেয় ভবনটার ছাদে- স্বচ্ছ কাঁচের জানালা দিয়ে ছাদের দিকে তাকাই- এইসব ভালবাসাবাসি দেখি, এবং আর দশটা তথাকথিত মধ্যবিত্ত ভালমানুষের মতো বড়বেলার কষ্ট বুঝতে থাকি।
ছোটবেলার বিকেলে মানুষ খুশি হয়, আর যেদিন বিকেলে মানুষ প্রথম কষ্ট পায়- সেই দিন থেকে তারা বড় হয়ে যায়। এরপর পৃথিবীর যাবতীয় রীতি-নীতির মতো মিষ্টি বিকেলগুলো আর কোনদিন ফিরে আসে না। বড়বেলা এমনই!
বড়বেলার বিকেলে নিজেকে ঐ হাতিটা মনে হতে থাকে, পৃথিবীকে কাঁধে নিয়ে দাড়িয়ে থাকা হাতি। ভারবাহী, বোকা, স্থবির ঐ হাতি- কোথাও যাবার জায়গা নেই মহাকাশে শুধু শুধু একা একা এত কাজ ছিল জমে- কোন দিন করা হবে না। কোথাও ভালবাসা না পেয়ে হাতিটা আস্তে আস্তে মারা যাবে। বড়বেলা এমনই! [টাম্পা, ফ্লোরিডায়, এক পড়ন্ত বিকেলে]

বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৪

একটি উত্তরাধুনিক রোমান্টিক (প্রায়) কবিতা

কোন একদিন বিকেলে
এরিক ক্ল্যাপটনের গানগুলো ফুরিয়ে যাবে
স্পটিফাই বলবে সরি, নো ইন্টারনেট কানেকশন অ্যাভেইলএবল
খুঁজে পাওয়া যাবে না দে বেষ্ট অফ এলটন জন।
ফ্রিজের মধ্যে ২০০৫ বোর্দো শেটোর খালি বোতল
দু'য়েকটা লো ফ্যাট গ্রীক ইয়োগার্ট ছড়িয়ে থাকবে এদিক ওদিক
আধখাওয়া ক্যান্টালোপ আর স্কিমড মিল্ক বিদ্রুপ করবে
চ্যাড়ামো হচ্ছে?
আস্তে আস্তে শোবার ঘরে যাব
মাথার কাছে ইতিউতি হাতড়াব
খুঁজে পাব না আবুল হাসান আর জয় গোস্বামী
দি গডস ডিলিউশন বইটা! কিনেছিলাম কি?
সেদিন বিকেলে আবার বসার ঘরে যাব
রাইজিং অ্যারিজোনার নিকোলাস কেজের মত বসে থাকব
তোমার অসংখ্য চুমুর জন্য বসে থাকব।

রবিবার, ৩ আগস্ট, ২০১৪

হ্যাংওভার ০০১

সিন্দাবাদের ভূতেরা ঘুর ঘুর করে
এখনও, ওক্লাহোমা কিংবা ফ্লোরিডার বাতাসে।
ঝুলে পড়ে, হ্যাংওভার হয়ে।

শুক্রবার রাতে তাই-
আধুনিক যুবকরা বাকারডি কোলা খায় লং আইল্যান্ডে-
রাশান ওয়াল্টজ নিয়ে ঘুরে বেড়ায় মোহাবি ডেজার্ট-
আর শনিবার বিকেলে
ধূলা ঝাড়তে থাকে শক্তি চট্রোপাধ্যায়ের!

সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

সন্ধ্যেবেলা


যে পৃথিবী না-মানুষের
সেই পৃথিবীতে বাঁচি দিন শেষে।

প্রতি সন্ধ্যেবেলা শকুন ঘোরে হওয়ায়
আধুনিক গেরস্তের ঘরে ঢুকে খেয়ে যায় হৃদয়-
কিছুই হয়নি ভেবে নির্লিপ্ততা গ্রাস করে
ধারহীন নেইলকাটারে নখ কাটি-
ইউটিউব খেতে থাকি চা-সিগ্রেটের সাথে।

প্রতি সন্ধ্যেবেলা-
একটা মানুষ একটু একটু করে মরে যায়।

সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১২

প্রিয় ইসরায়েলের জন্য কয়েকটা লাইন


হে ইসরায়েল,
    হে পৃথিবীর জারজ সন্তান
        তোমায় বলছি শোন-
বুঝেছ কিসের ব্যথা দিয়ে গেলে পিতাকে
শিশুর রক্তে ভিজে যায় হাত
শরীর ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে হৃপিণ্ড।
তোমার একেকটা বুলেট
    একেকটা মর্টার
         একেটা ক্ষেপণাস্ত্র
             একেকটা মৃত্যুর গান হয়ে ঝড়ে পড়ে প্যালেষ্টাইনের বাতাসে।

হে ইসরায়েল,
তোমার জন্মান্ধ চোখ জুড়ে রক্ত
শিশু, কিশোর আর যুবকের রক্ত
মুখ-নখ-ঠোঁট আর কন্ঠনালী কি একবার দেখেছ আয়নায়?
এখনো কি গড়িয়ে পড়ছে না মা আর ভগ্নির রক্ত?
এত মৃত্যু আর রক্তের বিছানায়
কি করে ঘুমাও তুমি, হে ইসরায়েল?

আমি তো জেনেছিই এতদিনে
জেনেছ তুমি
মেশিনগানের বাঁধানো বুলেটে জড়িয়ে থাকে ভালবাসা
বন্দুকের নলের ভিতর ঘুরে ফেরে শুভদৃষ্টি
শুধুমাত্র লাল রংই হতে পারে এই পৃথিবীর
বুলেট আর কান্নার শব্দে
কি বা এমন পাথর্ক্য?
তবুও তুমি কি জান
শিশুর নিথর দেহ তুলে ধরতে কতটুকু শক্তি প্রয়োজন পিতার
মায়ের বুকের কোন অংশে থাকে মৃত শিশু
অথবা যে শিশু হামাগুড়ি দেয় রক্ত-মাটি আর পিতামাতার শরীরে
আর কতটুকু করলে মুছে যাবে মর্ত্যে আগমনজনিত অপরাধ?
জান কি? না। এতদিনে জেনেছি আমি। জান না।
কেননা তোমার কোন মা নেই
কেননা তোমার কোন বাবা নেই
কেননা তুমি, তোমার মাতাপিতাহীন এক পৃথিবীর
শুধুই একমাত্র জারজ সন্তান।

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

অথচ সুনির্দিষ্ট কোন নারী নেই


অথচ সুনির্দিষ্ট কোন নারী নেই
অথবা মাউন্ট কেনিয়ার চূড়ায় জমে থাকা শুভ্র বরফ-
নেই তার মত কোন শীতল পরশ।
কিংবা বসরার গোলাপের মত চিবুক
একবার ছুঁয়ে দেখলে বহুবার মানুষ হয়ে জন্মাতে ইচ্ছা করে।

অথচ সুনির্দিষ্ট কোন নারী নেই-
হরহামেশাই শরীরের টানে
ফারেনহাইটের পারদ উপরে উঠে গেলে
আঁতকে ওঠা নারী নেই-
'জ্বরে যে শরীরটা পুড়ে যাচ্ছে'
এমনটা কারও বলা নেই, তাই বলে
শুধুই শুয়ে থাকা
একা একা বৃষ্টি দে...অথচ সুনির্দিষ্ট কোন নারী নেই
অথবা মাউন্ট কেনিয়ার চূড়ায় জমে থাকা শুভ্র বরফ-
নেই তার মত কোন শীতল পরশ।
কিংবা বসরার গোলাপের মত চিবুক
একবার ছুঁয়ে দেখলে বহুবার মানুষ হয়ে জন্মাতে ইচ্ছা করে।

অথচ সুনির্দিষ্ট কোন নারী নেই-
হরহামেশাই শরীরের টানে
ফারেনহাইটের পারদ উপরে উঠে গেলে
আঁতকে ওঠা নারী নেই-
'জ্বরে যে শরীরটা পুড়ে যাচ্ছে'
এমনটা কারও বলা নেই, তাই বলে
শুধুই শুয়ে থাকা
একা একা বৃষ্টি দেখা।

অথচ এমন কোন সুনির্দিষ্ট নারী নেই
সুনির্দিষ্ট দৃষ্টির ভিতরে গিয়ে আটকে থাকা নেই
সকালে বিকেলে সিগারেটের ধোঁয়ায় দমবন্ধ হবার কেউ নেই
একদম কেউ নেই।

তবুও কোন এক বিকেলে-
সূর্যের আলো কমে গেলে
লেবুপাতার গন্ধ পাওয়া যায়
শিরীষের ডালে হঠাৎ হঠাৎ আটকে যায় মন।

ঐ সুনির্দিষ্ট বিকেলেই
অনির্দিষ্ট নারীদের বড্ড ভালবাসতে ইচ্ছা করে,
ভালবাসতে ইচ্ছে করে।

বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০০৯

আমার কাচের শরীর তাদের কথার তাসে বারবার যেভাবে ভেঙে পড়ে


তারা যখন দ্যাখে, একদিন আমি পেতলের চওড়া প্লেটে শোল মাছের সালুন দিয়ে ভাত খাই, তখন তারা বলে, "আমরাও এইরম খাইছি একদিন"। তারা যখন দ্যাখে, শরীরে আমার শিমুল তুলার মত পলকা শার্ট, যেন সব রং চুরি করেছে একা, চৈত্র মাসের দুপুরে আলো দিয়া সূর্যরে কাপায়, তখন তারা বলে, "এইসব আমরাও পড়ছি কতদিন"। তারা বলে আর হাসে এবং হানা দিতে থাকে আমার সাপ্তাহিক স্বপ্নে, হানা দিয়া বলে, তারাও এরকম স্বপ্ন দ্যাখে প্রতিদিন, তিন বেলা ভাত খাওয়ার মত অনেকদিন তিনবেলাও। তারা যখন দ্যাখে, আমি ক,খ,গ জাতীয় জিনিসগুলা জোড়া দিয়া শব্দের পর শব্দ সাজাই, কবিতা বানাই, তখন তারা বলে, "এইসব আমরাও কত বানায়েছি, কবিতা", এবং আমি যখন কবিতায় খেয়ে কবিতায় ঘুমায়ে পড়ি তখনও তারা বলে, "আরে , কবিতায় খেয়ে ঘুমায়েছি তো আমরা, এর টা ঘুম না, চোখ বন্ধ করে মটকা মেরে পড়ে থাকা, ঘুমের অভিনয়"।
যেদিন জন্মায়েছি আমি, শিমুল তুলার দেশে, এক গ্রাম শিমুলতলায়, সেদিন থেকেই তারা শুধু বলে যায়, বারবার বলে যায়।
তারা শুধু বলে যায়, কখনও আমি শুনি, কখনও আমরা। এমনটা নয় তারা এইসব বলে গেলে কারও কিছু আসে যায়, শুধু আমার কাচের শরীর তাদের কথার তাসে বারবার ভেঙে যায় ।

মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০০৮

আমি বাংলাদেশ এখনও মরিনি - বেঁচে আছি

আমি বাংলাদেশ
আমাকে যারা তোমরা খুঁচিয়েছ,রক্তাক্ত করেছ
চোখ মেলে চেয়ে দেখ তারা আজ
এখনও আমি মরিনি
ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল অধিকার করে এখনো বেঁচে আছি
পলিসন্চন করে বাড়িয়ে তুলছি আমার অস্তিত্ব ।

আমার বুক চিরে বয়ে যাওয়া নদীগুলো
একদা যাদের অস্তিস্তের সাথে মিশে থাকত নৌকা ও ইলিশ
এখন তাদের অধিকারে বিস্তীর্ণ বালুচর,কিম্ভুদরুপী বাঁধ
জেলেপাড়ার হারান মাঝি মাছ দেখেনা চোখে
বৃদ্ধ হারানের চোখে নদীগুলোর জন্য হাহাকার
মরে যাওয়া এসব প্রতিটি নদী
মৃত্যুর আগে বলে যাচ্ছে তোমরা হত্যাকারী
আমার নদীগুলোকে তোমরা হত্যা করছ
আমি বাংলাদেশ,আমাকে তোমরা হত্যা করছ।
মিলের গুদামে সারি সারি গাছের গুড়িগুলো
আসবাব ভেবে যাদের করেছ গুদামজাত
এদের বলতে দাও
এরা বলবে তোমরা হত্যাকারী
যুগ-যুগান্তরের আমার বৃক্ষেরা
আমার বুকে মাথা উচু করে দাড়ানো বৃক্ষেরা
এদেরকে তোমরা হত্যা করছ
আমি বাংলাদেশ,আমাকে তোমরা হত্যা করছ।
বায়ুতে আমার ভরছ বিষাক্ত সীসা
প্রবলভাবে শব্দাধিক্যর চর্চা করছ ডেসিবেলে
কর্ষিত জমির মধ্যে ভরে দিচ্ছ অ্যামোনিয়াম সালফেট
যেন ধমনীর মধ্যে বয়ে বেড়াচ্ছি পটাশিয়াম সায়ানেড
তবুও আমি বেচেঁ আছিএখনও না মরে বেচেঁ আছি।

আমি বাংলাদেশ বেঁচে থাকব
রক্তাক্ত,বিক্ষত আমি বেঁচে থাকব
আমার প্রতিটি শব্দ বেঁচে থাকবে যতদিন
আমার প্রতিটি বর্ণ বেঁচে থাকবে যতদিন
আটষট্টি হাজার সবুজ গ্রাম নিয়ে
মুখ থুবরে পড়ে থাকব ততদিন।

রবিবার, ২৯ জুন, ২০০৮

সেইসব পাখিরা আর পাখিদের মত ঘুরে বেড়ানো মানুষেরা

অজস্র মাইল ঘুরে আসে সেইসব পাখিরা
অস্থিতে কনকনে শীতের গন্ধ ,সামান্য উষ্ণতার আশা
সাইবেরিয়ার অরন্য দু চোখে বয়ে নিয়ে
এইসব ধানের দেশে আসে সেইসব পাখিরা -
কোন শীতের সকালে বিলের পানিতে পা ডুবিয়ে উষ্ণতা খোঁজে
ঘোলে চোখে দেখে যায় মৃদু বৃষ্টির মত নেমে আসা কুয়াশার ধারা
বুকের মধ্য অনবরত বেজে যায় সুদূর সাইবেবিয়া
রাত্রের নিকষ অন্ধকারে চোখ বুজে আসলে স্বপ্ন ভেসে ওঠে
সাইবেরিয়ার স্বপ্ন , মাতৃভূমিতে ফিরে যাবার স্বপ্ন।

শীতের এইসব পাখিদের মতই যেন আমরা
উষ্ণতার খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছি এদেশ-সেদেশ
প্রশান্ত থেকে আটলান্টিক , বাল্টিক আর টেমস
অজস্র এই আমরা
ঠিক যেন পাখিদের মত -
চোখে স্বপ্ন , দেশে ফেরার স্বপ্ন ।
সেইসব পাখিদের মত আমরাও হয়ত কেউ কেউ ফিরে যাই
অথবা আমাদের কেউ কেউ পড়ে থাকি , মরার মত পড়ে থাকি
প্রবাসের ভাগাড়ে , যেমন করে যেইসব পাখিরা পড়ে থাকে
বালুচরে , শিকারীর এয়ারগানে বিদ্ধ হয়ে ।

বুধবার, ১৬ এপ্রিল, ২০০৮

জায়গা করে নিতে হবে

যারা আমাকে শিখিয়েছিল এতদিন
একটি কথাই বলেছিল তারা বারবার
আমার নিজস্ব কোন জায়গা নেই
জায়গা করে নিতে হবে
পিঁপড়ার সারিতে যেমন করে জায়গা করে নেয় পিঁপড়ারা।

কিছু কিছু লোক আছে
জায়গা করা যাদের হয়ে ওঠে না
যাদের জায়গাটাতেই জায়গা করে নেয় কেউ কেউ
নিঃসঙ্গ পিঁপড়াদের মতই যেন তারা
মাঝে মাঝে আমিও এইসব লোকেদের দলে পড়ে যাই ।

সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০০৮

তুমি বিষয়ক

১।ফুটন্ত কলি স্পন্দিত হচ্ছে নির্বিঘ্নে
লাভ কার গোলাপ গাছ তোমার না ভ্রমরার ?

চাক ভেঙে মৌ মৌ করে উঠছে মধু
লাভ হচ্ছে কার জারুল গাছ তোমার না মৌমাছির ?

তুমি দুলে উঠছ অক্লেশে
সর্বাঙ্গ শরীর থেকে মুছে ফেলছো অন্ধকার
চিবুক ,স্তনে অবিরাম চাষ হচ্ছে গোলাপ
বসরার সুগন্ধি লাল গোলাপ
বলে দেবে একবার লাভ হবে কার
আমার না তোমার বর্বর স্বামীর ?

২। তুমিই তো কেড়ে নিয়েছিলে সব
মধু ,পড়তে পড়তে শরীরে ছড়ানো
দেখ তাই মৌমাছিরা বড় অসহায়
মধু ভেবে মানব রাবারে হুল ফোটায়।

রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০০৮

খুন হয়ে পড়ে রয়েছি রাস্তায়

অনেকদিন হল আমি খুন হয়ে পড়ে আছি রাস্তায়
বর্ষার তুমুল ঝড়ে উড়ে যাচ্ছে আমার দেহাবশেষ
যে স্বচ্ছ আকাশকে এতদিন ভালোবাসতাম
সেই আজ মেঘ হয়ে উড়িয়ে দিচ্ছে আমাকে।

খুন শুনলে তোমরা কেঁপে ওঠো
খুনি ধরা পড়ুক, বিচার হোক এই তোমাদের প্রত্যাশা
আশ্চর্য , আমি যে খুন হয়ে পড়ে আছি জানছে না কেউ,
ছাপছেনা খবরের কাগজ হইচই হচ্ছে না কোথাও
কথা হচ্ছেনা মোড়ের চায়ের টেবিলে
তবে কি মৃত আমি জীবিত আমির মতই অপাংক্তেয় ?

কে আমাকে হত্যা করল
মানুষ থেকে কেড়ে নিল মনুষ্যত্ব কুকুর বানিয়ে ফেলে রাখল রাস্তায়
একবারও জানতে চাইল না কেউ
বর্ষার মোহন দুপুরে অপেক্ষায় থাকলাম
মর্গের ভ্যানের অপেক্ষায় থাকলাম।

শনিবার, ৫ এপ্রিল, ২০০৮

নগরপিতার কাছে আমাদের আবেদন

শ্রদ্ধেয় নগরপিতা,
এই শহরে আমরা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছি
আমরা আমাদের অপসারণ চাই ।

চারদিকে নীরব বিপ্লবের আস্ফালন আজ
পোশাকে-আশাকে, শিল্প -সংস্কৃতিতে ,রাজনীতি - বলনীতিতে
আমরা খাপ খাওয়ানোরও অযোগ্য বড়ই।

রুপালি পর্দায় সোনালী শরীর
ছোট পর্দায় চল্লিশোর্ধ মহিলার যৌবন
রিকশারোহী তরুণ- তরুণীর চুম্বন
তরুণ কবির খাদ্য গাজাঁ
আর্ট ফিল্মের কামজ শরীর
ক্রমাগত শরীরের সাথে সেটে যাওয়া পোষাক
প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবিদের বক্তৃতা বিক্রি করে কেনা খাবার
আমরা আর সইতে পারছি না নগরপিতা।

আইন করে খাওয়া বন্ধ করে করলেন তামাকের ধোঁয়া
অথচ শহরময় ধোঁয়ার গতি হল না কোন।
নগরপিতা আমরা পরাজিত
নব্য যাজকেরা নষ্ট করেছে আমাদের ধর্ম
সাধের সমাজতন্ত্র- সেটাও পরাজিত কম্যূনিষ্টদের কাছে
সত্যিই খাপ খাওয়াতে পারছি না আর
আমরা আমাদের অপসারণ চাই।

শুক্রবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০০৮

সমান্তরাল সহবাস

একবার মুহূর্তের জন্য গিলে ফেলেছিলাম বৃক্ষসমেত বন
কিন্তু আশ্চর্যমত পেটে গেড়ে গিয়েছিল বৃক্ষেরা
ফলত দানাদার খাদ্য অসহ্য হয়ে উঠেছিল ।
বৃক্ষেরা তরলমত খাদ্য পছন্দ করে
কিছুকাল তাই তরলখাদ্য নিতে হয়েছিল আমার।
দা-কুঠার থাকলে বৃক্ষ কর্তন এমন কঠিন কিছু নয়
মস্তিস্ক নাড়া দিয়ে উঠল আমার
তন্ন তন্ন করে বাড়ি খুজঁলাম,ওসব কিছু নেই(!)
অতঃপর গন্তব্য শৈল্যচিকিৎসক মুখলেছউদ্দীন
ডাক্টারের পেট কাটার বায়না,আমার কাঁটা ছেড়ার ভয়
বললাম পেট কেটে নয়,মুখ দিয়ে টেনে তোলেন
ডাক্টার গম্ভীর "বৃক্ষের মূল গেড়ে আছে পেটে ওটা কাটতে হবে"।
সারাটা জীবন ছায়ায় রেখেছি
আমি কি গাড়ল নাকিওটা কাঁটতে দেই
অতঃপর পাঁচশত টাকা ভিজিট এবং প্রস্থান।
বৃক্ষেরা গেড়েই থাকল ভিতরে
চেষ্টার কমতি থাকল না আমার
মাঝে মাঝে ঝড়ে বৃক্ষের পতন বিষয়ক খবর পড়ি
দস্তুরমত ঝড়ের বেগে বাতাস দেই ভিতরে
কিন্তু কি আশ্চর্যমত
কয়েকটা পাতা মাএ পড়ে ভিতরে
পচেঁ যায়পেটটা ব্যথা হয়ে থাকে কয়েকদিন
ভাবি থাকুক না বরং নিজেই অভিযোজিত হই
পৃথিবীতে আর কটা দিন?

আপনারা হয়ত এতক্ষন বুঝেই ফেলেছেন
একেকটা নারীও একেকটা বৃক্ষ বটে
যাদের গিলে ফেলা যায় সহজেই কিন্তু
উগলানো যায় না।

এতটুকু আশা নিয়েই শুধু আমি এসেছিলাম

ভরা বর্ষায় জোস্না ঝরার রাতে ছিলাম আমি একা
বজরার উপরে,গহীন হাওরে
জলের তরঙ্গে দুলে উঠছিল আমার শরীর
আমি বেতের চাটাইয়ে শুয়ে তারা গুনছিলাম।
আচমকা বৃষ্টি এসে নাড়া দিল-
জল বৃষ্টির মাখামাখি,বায়ুর সাথে মিতালী
অর্ধেক নিকোটিন হাতে নিয়ে
আমি বুঝে চলতাম জল,বৃষ্টি আর বায়ুর আচ্ছাদন।

শুধু এতটুকু আশা নিয়েই আমি এসেছিলাম
শহরের বিষাক্ত বায়ু বুকে নিয়ে আমি আসিনি কবর খুড়তে।

সবকিছু কিনে নেবে তারা

সবকিছু কিনে নেবে তারা
তোমার আমার দেশ ,দেশের মাটি
পদ্মা-মেঘনা-যমুনার মত সব নদী
কিংবা ধর তোমার বাড়ীর সামনের -
লাউগাছের মাথায় বশ করার জন্য রাখা লাউটাও।

এই যে তুমি আইজুদ্দিন রাস্তা দিয়ে হাটছ
সেটা পলাশীর সামনের নির্জন রাস্তাই হোক
অথবা মতিঝিলের সামনের রাস্তাটাই হোক না কেন
কিংবা ধরেই নও মহাখালী ক্যান্টনমেন্টের সাজানো রাস্তাগুলো
সেগুলোও কিনে নেবে তারা।
তুমি রমনা পার্কের যে বেন্চিতে বসে
তাজবিড়ির পড়ে থাকা মোতা খাও প্রতিদিন
সে বেন্চটাও কিনে নেবে তারা
যেমনটা কিনে নেবে পুরান ঢাকার
মোজাফফর আলীর দোকানের চায়ের কাপের চাটুকুও।

সবকিছু কিনে নেবে তারা
ধরে নাও তোমার বাড়ীর সামন দিয়ে
যে মেয়েটা প্রতিদিন বেনীচুল নিয়ে হেটে যায়
তার মাথায় দেয়া তেলটুকুর বোতলও।
কিনে নেবে তারা তোমার জুতা ক্ষয়ে গেলে
তুমি নীলক্ষেতের যে দোকান থেকে ছোল লাগিয়ে নাও
সে দোকানের সব জুতার খোল।
কিংবা ধর তোমার উঠটি মেয়েটা
যে দোকানে ব্রেসিয়ার কিনতে যায়
সে দোকানের সব ব্রেসিয়ারগুলো।

সবকিছু কিনে নেবে তারা
তোমার দেশের জাতীয় সংসদ,সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
রমনা পার্ক ,সের্কেটারিয়েট,প্রধানমন্তীর দপ্তর
সূধা সদন,হাওয়া ভবন,সেনা কল্যান ট্রাস্ট কিংবা ধর
পাবলিক লাইব্রেরীর যে টয়লেটগুলো তুমি প্রতিদিন
দুইবার করে ব্যবহার কর
তার দেয়ালের লেখাগুলো পর্যন্ত।

কেনে নেবে তারা তোমার গৃহিনীর হাতের কাঁকন
প্রিয় সন্তানের ব্যবহৃত স্লেট,বাড়ীর চা খাবার পেয়ালা
বিটিভির স্কীন,অফিসের বাস,রাস্তার ম্যানহোল
কিংবা তুমি যে মোজাটা
বছর দুয়েক হল বিরামহীন পড়ছ সেটাও।
কিনে নেবে তারা
তোমার দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ,পাটক্ষেতের সব সবুজ পাতা
অবুঝ কিশোরের বুকে আকড়ে থাকা বইয়ের পৃষ্ঠা
ফার্মগেটের ওভারব্রীজ,সদরঘাটের সব লন্চ ও নৌকা
এমনকি তোমার ঘরে সযত্নে রাখাকোরান শরীফের সব সূরাগুলোও।

তুমি শাহেদ জামান যে দোকানে বসে চা খাও
যে বাজারে বাজার কর
যে ব্যাংকে টাকা রাখ
অসুখের সময় যে হাসপাতালে যাও
অথবা বউয়ের হাতের বালার জন্য
বায়তুল মোকাররমের যে দোকানটায় যাও
কিংবা তোমার ছেলেটাইবা যে স্কুলে যায়
তার সবই কিনে নেবে তারা।

তুমি কেরানী আফসার আলী
যে পান্জাবী-পাজামা পড়ে অফিসে যাও
যে খুশবু শার্টে লাগিয়ে কাজ কর
মাসের শেষে পল্টনে যে মেয়েটার কাছে একবার যাও
তোমার কাজে যে কালী ব্যবহার কর
কিংবা তোমার গৃহিনী যে ডিটারজেন্টে ধোয় তোমার গন্ধ
তারও সব কিনে নেবে তারা।
তুমি ছাত্র ইরু
যে কাগজে কবিতা লেখ
কম্পিউটারের যে স্কীনে ছবি দেখ
ঘর্মাক্ত দেহে বালিশের যে কভারের উপর
মরার মত শুয়ে থাক
অথবা বাংলামোটরের জ্যামে ভিক্ষুকের থালায়
যে আধুলিগুলো ছুড়ে দাও
তারও সব কিনে নেবে তারা।

সবকিছু কিনে নেবে তারা
তোমার দেশমায়ের বুকে আজ
একাত্তরের শুয়োরদের বিষাক্ত নখর।

পতন

সজনে ডাটায় ঝুলে ছিলাম এতদিন
-ফল হয়ে
টুপ করে ঝরে যাব একদিন
ভুলেও ভাবিনি কোনদিন।

আমার প্রতিজ্ঞা

আর একবার যদি ঘৃণা কর
এই শেষবার বলে রাখলাম
কেউই রেহাই পাবেনা তোমরা
শরীরে আমার ক্যান্সার কোষ,এইডস এর জীবানু
রক্তকে দূষিত করবো আমি তোমাদের।

আর একবার যদি ঘৃণা কর
বলে রাখছি আমি শহরের বিষাক্ত বায়ুকে
স্তরে স্তরে সাজানো মৃত্তিকাকে
থরে থরে বিছানো গোলাপ আর
অদম্য উৎসাহে লালিত গৃহপালিত জন্তুদের
নিমিষে অনস্তিত্ব দেখবে তোমরা নিজেদের ।

আর একবার যদি ঘৃণা কর
কথা ছাড়াই কেড়ে নেব সব
সবুজ ধানক্ষেত ,হলুদ রঙা ধানের শীষ
চাক ভেঙে তুলে নেব মধু
গাভীর ওলান থেকে মুছে দেব দুধের গন্ধ
আদ্র্ সকালে ঘাস থেকে তুলে নেব শিশির।

আর একবার যদি ঘৃণা কর
কিছুই রেহাই দেবনা তোমাদের
চিত্রিত হরিণের গা থেকে তুলে নেব চামড়া
-জুতা বানাব
জল থেকে তুলে নেব ছায়া
দরিদ্র চিত্রকরের মতো ফেরী করব বাজারে।
ভরা পদ্মার রুপালি ইলিশ আর
গৃহপালিত পাখিদের জড়ানো তন্তু
সবই খেয়ে ফেলব নাস্তার টেবিলে
তোমাদর খাদ্যযন্ত্রের প্রতিটি উপাদান
একেকটি এঁটো হয়ে থাকবে আমার ।

অথচ আর যদি একবার ভালবাস
হাতে আমার লেবুপাতার গন্ধ
সুগন্ধ বিলোতে আপত্তি নেই আমার
বস্তুত সুগন্ধ মাত্রই ছড়াতে ভালবাসে।

যে শহরের তরুণীরা মানুষ ভেবে শবের দিকে হাত বাড়ায়

হাস্নাহেনার গন্ধ বুকে নিয়ে যারা ঘোরে এলোমেলো
এ শহরের তরুনীরা তাদের অপাক্তেয় ভাবে
শীতের সকালে ঘাসে জমানো শিশিরের ন্যায়
যাদের মধ্যে বাসা বাধেঁ ভালবাসা
এ শহরের তরুনীরা তাদের কর্পূর ভেবে দেয় উড়িয়ে
যে তরুনেরা সঙ্খের কোমল জলে খুঁজতে চেয়েছিল হৃদয়ের প্রতিচ্ছায়া
এ শহরের তরুনীরা তাদের বুক ভরে দিয়েছে বুড়িগঙ্গার কদর্য জল।

এ শহরের তরুনীরা শহরের বিষাক্ত বায়ুর মতই বিষাক্তময়
নিঃশ্বাসে হাঙ্গর ক্ষুধা,হাতে তরুন ভাঙ্গা সড়কি
আঙ্গুর সফেদা ভেবে অজান্তে ঝোঁকে মাকাল ফলে।

আমার ব্যবচ্ছেদ

আস্তে আস্তে বিচ্ছিন্ন করে ফেল আমায়
আমার সবই নিতে পারবে তুমি
আমার চোখ-প্রদীপের শিখার মত চোখ
একুশ বছর ধরে দেখলাম তোমাদের পৃথিবী।
কন্ঠনালী,অনবরত উচ্চারন করে গেছে যা
সত্য মিথ্যার প্রথাগত উচ্চারন।
মস্তিস্কের প্রতিটি স্নায়ুকোষ যেখানে
অক্লেশে সরল-কুটিল চক্রান্তের জাল হয়েছে বোনা।
নিতে পারবে আমার নিয়তযত্নে শ্যাম্পু মাখানো কালো কেশ
মেরুদন্ড যেটাকে কখনই দাড়াতে দিতে পারিনি
আমার না খেতে পাওয়া শুকনো পাকস্থলী,
ফুসফুস- যেখানে অবিরাম সন্চালিত হচ্ছে বায়ুপ্রবাহ
এমনকি আমার হাত ও পায়ের অঙ্গুলিও
এখনও যেগুলোতে লেগে আছে সামান্য অশৌচ।
আমার সবই খুলে নিতে পারবে তুমি শুধু-
কেবলমাত্র আমার হৃপিন্ডটা ছাড়া
কেননা হৃদয়টা এখন আর আমার দখলে নয়-
হৃদয়টা এখন অন্য কারো,কোন এক নারীর।